২০ অক্টোবর ২০২৬, মঙ্গলবার, ১২:১৩:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পূ^জা^মণ্ডপ পরিদর্শনে একদিনে রংপুর-রাজশাহী-চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০-১০-২০২৬
পূ^জা^মণ্ডপ পরিদর্শনে একদিনে রংপুর-রাজশাহী-চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী

দুর্গাপূজার মহানবমীতে রাজধানীর বাইরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে আজ মঙ্গলবার একদিনে তিন বিভাগ সফর করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের মণ্ডপে গিয়ে তিনি পূজার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। দিনভর এই সফর শেষে রাতেই তিনি ঢাকায় ফিরবেন।

সকাল ৯টায় তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে একটি সামরিক উড়োজাহাজে চড়ে প্রধানমন্ত্রী যাত্রা শুরু করেন। প্রথম গন্তব্য রংপুর। তবে উড়োজাহাজ নামবে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে। সেখান থেকে সড়কপথে তিনি রংপুরে যাবেন। কর্মসূচি অনুযায়ী, সকাল ১০টায় সৈয়দপুর থেকে রংপুরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা। বেলা ১১টায় রংপুরের রাধা গোবিন্দ মন্দিরের ধর্মসভা পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন তিনি। সেখানে পূজার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ও করবেন।


রংপুরের কর্মসূচি শেষে সাড়ে ১২টায় সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী। রাজশাহীতে সোয়া ১টায় তিনি ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখবেন। এরপর আড়াইটার দিকে রাজশাহী সার্কিট হাউসে যাত্রাবিরতি দেবেন।


রাজশাহীতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের পাশাপাশি রয়েছে একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিও। বিকেল ৩টায় শহরের হাজী মুহাম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক জনসভায় যোগ দেবেন তিনি। অর্থাৎ ধর্মীয় উৎসবের সফরের মধ্যেই জনসংযোগের সুযোগও রাখা হয়েছে।


জনসভা শেষে বিকেল সোয়া ৪টায় রাজশাহী থেকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। চট্টগ্রামে বিকেল সাড়ে ৫টায় তিনি রহমতগঞ্জের জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন। এটি দিনের শেষ মণ্ডপ পরিদর্শন কর্মসূচি।


এরপর সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে যাত্রাবিরতি। রাত পৌনে ৮টায় শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে ঢাকার পথে রওনা হবেন তিনি। রাত সোয়া ৯টায় তেজগাঁও বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে। ফলে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত টানা প্রায় সাড়ে ১২ ঘণ্টার এই সফরে তিনটি বিভাগীয় শহর ঘুরে আসবেন প্রধানমন্ত্রী।


উড়োজাহাজে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সফরসঙ্গী হয়েছেন সরকার ও দলের একাধিক নেতা। তাঁদের মধ্যে আছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। সঙ্গে আছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার।


এ ছাড়া সফরে আছেন বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধা, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সহসভাপতি ও সংসদ সদস্য নিপুল রায় চৌধুরী, বিএনপির সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনও সফরসঙ্গী হয়েছেন।


সফরসঙ্গীদের তালিকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি ও সংস্কৃতিবিষয়ক দায়িত্বে থাকা নেতাদের উপস্থিতি লক্ষ করার মতো। এতে বোঝা যায়, সরকার এই সফরকে শুধু আনুষ্ঠানিকতার বাইরে গিয়ে সম্প্রীতি ও সংখ্যালঘুদের প্রতি সংহতির বার্তা হিসেবেও দেখাতে চাইছে। মহানবমীর মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে প্রধানমন্ত্রীর নিজে মণ্ডপে উপস্থিত থাকা পূজা উদ্যাপনকারী সম্প্রদায়ের কাছে আস্থার বার্তাও পৌঁছে দিতে পারে।


উত্তরাঞ্চলের রংপুর, বরেন্দ্র অঞ্চলের রাজশাহী ও বন্দরনগরী চট্টগ্রাম, তিন ভিন্ন ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক অঞ্চলকে একদিনে ছুঁয়ে যাওয়ার এই পরিকল্পনা প্রশাসনিক ও নিরাপত্তার দিক থেকেও বড় প্রস্তুতির দাবি রাখে। সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে এ জন্য বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা যায়।




শেয়ার করুন